মরদেহ চুরির আশঙ্কায় মৃত ছেলের কবর পাহারায় বাবা, ঋণ করে ভাড়া করলেন পাহারাদার
মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার একটি গ্রামের হৃদয়বিদারক ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। বজ্রপাতে মারা যাওয়া ১৭ বছর বয়সী ছেলে আরাফাত খানকে দাফনের পরও শান্তি নেই পরিবারটির। মরদেহ চুরির আশঙ্কায় প্রতিদিন রাত জেগে ছেলের কবর পাহারা দিচ্ছেন বাবা জসিম খান। এমনকি অসুস্থ শরীর নিয়েও তিনি কবরস্থানে বসে থাকছেন, আর যখন নিজে পারেন না তখন ঋণ করে লোক ভাড়া করে পাহারার ব্যবস্থা করছেন।
জানা গেছে, গত ১৬ এপ্রিল মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের হাইয়ারপাড় এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির সময় গরুর জন্য ঘাস কাটতে মাঠে যান আরাফাত খান। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে পার্শ্ববর্তী কামারখাড়া সামাজিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
আরাফাত ছিল পরিবারের বড় ভরসা। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সে ছিল তৃতীয় সন্তান। স্থানীয়ভাবে দর্জির কাজ করত এবং পরিবারের খরচে বাবাকে সহায়তা করত। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি ভেঙে পড়ে।
কিন্তু দাফনের পর নতুন আতঙ্ক শুরু হয় পরিবারে। স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিন ধরে একটি গুজব প্রচলিত রয়েছে—বজ্রপাতে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মরদেহ বা কঙ্কালের বিশেষ চাহিদা রয়েছে এবং একটি চক্র এসব মরদেহ চুরি করে নিয়ে যায়। সেই ভয় থেকেই দাফনের পর থেকে প্রতি রাতেই কবর পাহারা দিচ্ছেন আরাফাতের বাবা।
আরাফাতের বাবা জসিম খান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
"আমার ছেলে ছোট বয়সেই সংসারের দায়িত্ব নিয়েছিল। তাকে তো আর ফিরে পাব না। এখন যদি তার লাশও চুরি হয়ে যায়, তাহলে সেটা আমি কীভাবে মেনে নেব? তাই রাত জেগে কবর পাহারা দিচ্ছি।"
তিনি আরও জানান, তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। সবসময় কবরে থাকতে পারেন না। এজন্য ধারদেনা করে অন্য লোকজনকে পাহারার দায়িত্ব দিতে হচ্ছে।
Best Backlink Sites List 2026 (Categorized for SEO & Indexing)
আরাফাতের মা সোনিয়া বেগম বলেন,
"ছেলেকে হারিয়েছি, সেই কষ্টই সহ্য করতে পারছি না। এখন যদি কবরও নিরাপদ না থাকে, তাহলে আমরা কোথায় যাব?"
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গভীর রাতে কবরস্থানের আশপাশে সন্দেহজনক লোকজনকে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে। এতে পরিবারটির আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে বিষয়টি। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার কবরস্থান পরিদর্শন করেন এবং কবরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রাম পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশ দেন। প্রশাসন জানিয়েছে, আপাতত কয়েকদিন কবরস্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে এবং ভবিষ্যতে সেখানে সিসিটিভি স্থাপনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
শাহবাগে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ: ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, মারধরে আহত কয়েকজন
এ ঘটনার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, একজন বাবাকে সন্তানের মৃত্যুর শোক ভুলে কবর পাহারা দিতে হওয়া সমাজের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং ভয়াবহ বাস্তবতা।
বাংলাদেশের ৭টি রহস্যময় স্থান ও তাদের ভয়ংকর ও অবাক করা গল্প – সত্য নাকি গুজব?

No comments