আমাদের নিউজ পোর্টালে আপনাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা। এখানে আপনি পাবেন সত্য ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ। আমরা বিশ্বাস করি, সঠিক তথ্যই সচেতন সমাজ গড়ে তোলে। পাঠকের বিশ্বাস ও ভালোবাসাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। সবসময় আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপডেট থাকুন।

আওয়ামী লীগের ভোট কে পাবে, চলছে নীরব প্রতিযোগিতা, নানা কৌশল...

 


গণ-অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতা হারানো আওয়ামী লীগ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। দেশে ক্রিয়াশীল প্রায় সব রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগকে গণহত্যার দায়ে নির্বাচনের বাইরে রাখার পক্ষে অবস্থান নিলেও দলটির সমর্থকদের ভোট পক্ষে নিতে চায় প্রতিদ্বন্দ্বী সব দল। এ নিয়ে আসনভিত্তিক নীরব প্রতিযোগিতা চলছে বলে জানা গেছে।

বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টিসহ একাধিক দল মনে করছে, নিজেদের সমর্থকদের বাইরে আওয়ামী লীগ সমর্থক ভোটারদের পক্ষে টানতে পারলে সেটা জয়-পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্রদের ভোট টানতে নানা কৌশল নিচ্ছে দলগুলো। কোথাও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাদের দলে ভেড়ানো, কোথাও মামলা-নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর পক্ষ থেকে। ভোটের প্রচার শুরু হলে আরও নানা কৌশল দেখা যেতে পারে।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ‘যে নির্বাচনে নৌকা নেই, সেই নির্বাচনে ভোট নয়’—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন প্রচার চালানো হচ্ছে। আওয়ামী লীগের মিত্র ১৪-দলীয় জোটের শরিকেরাও এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্র দলের কর্মী-সমর্থকদের একটা অংশ হয়তো ভোট দিতে যাবে না। এরপরও আওয়ামী লীগের নীরব সমর্থক-ভোটারকে কেন্দ্রে এনে নিজের পক্ষে রাখতে পারলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর সম্ভাবনা কিছুটা হলেও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনকে সব দলের অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। ওই চার নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট পেয়েছে ৩০.০৮ শতাংশ, ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩৭.৪৪ শতাংশ, ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪০.১৩ শতাংশ ও ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪৮.০৪ শতাংশ। এরপর আওয়ামী লীগ সরকারের অধীন ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় নির্বাচনই ছিল ব্যাপক কারচুপিপূর্ণ ও প্রশ্নবিদ্ধ।



২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের পতনের পর এখন আওয়ামী লীগের ভোট আসলে কত—সেটা কারও পক্ষে নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই। কারণ, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। দলটির সভাপতি শেখ হাসিনাসহ অধিকাংশ নেতা পলাতক অথবা কারাগারে। সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদেরও একই অবস্থা। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সর্বশেষ তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনের কারণে আওয়ামী লীগের প্রতি ভোটারদের ক্ষোভ তৈরি করেছে। এমনকি স্থানীয় সরকার নির্বাচনও ছিল অনিয়ম-জবরদখলে ভরপুর। সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের জনসমর্থন অনেকটাই কমে গেছে বলে অনেকে মনে করেন।

No comments

Theme images by lobaaaato. Powered by Blogger.